আপডেট: August 31, 2020
বেতাগী বরগুনা প্রতিনিধি:: নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যে বরগুনা জেলার বেতাগী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন চলাচলের অনুপরোগী। খানাখন্দে ভরে গেছে মহাসড়কটি। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, বেতাগী থেকে পটুয়াখালী যাতায়াতের জন্য বেতাগী বাসস্ট্যান্ড থেকে পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে রয়েছে ছোট-বড় ৫ শতাধিক গর্ত। গত কয়েকদিন যাবত একটানা বর্ষণে সড়কের মধ্যে গর্তে পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারণ। এতে ইজিবাইক, মোটরবাইক, অটো রিক্সা, টেম্পো, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ঢাকাগামী পরিবহন ও লোকাল যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে প্রতিনিয়ত। এসব গাড়ির চালকসহ ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, নারী-বৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।অপরদিকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো বেশি যাত্রীর আশায় বেতাগী বাসস্ট্যান্ড হয়ে সুবিদখালী বন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জুন মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দরপত্র আহ্বান করেন। এতে ৯ কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার টাকার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘খান ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ নামক প্রতিষ্ঠান এ সড়কের কাজ করেন।
ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশে নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হয়েছে বলে একাধিক ব্যাক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে অভিযোগ করেন।
প্রকৌশলীর তদারকিবিহীন, নিন্মমানের পাথর খোয়া ও কাঁদা মিশ্রিত বালুর সাথে লোকাল বালুর সংমিশ্রণ ও সামান্য বিটুমিন মিশ্রণে সড়কের কাজ করা হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
খান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মাহফুজ খান বলেন, ‘পটুয়াখালী-বেতাগী সড়কের ৫০ ভাগ কাজ মির্জাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, আবু বকর সিদ্দিকের কাছে এবং বেইলি ব্রিজ ও বাজার সংলগ্ন বাকি ৫০ ভাগ কাজ বেতাগী পৌর মেয়র আলহাজ এবিএম গোলাম কবিরকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে লিজ প্রদান করেছি।’
ঠিকাদার মির্জাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খাঁন মো: আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সড়কের বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি এবং সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’অপরদিকে সাবঠিকাদার বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ এবিএম গোলাম কবির বলেন, ‘আমি যে অংশে কাজ করেছি তা এখনো অক্ষত আছে।’সড়কের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম জানান, ‘সড়ক সংস্কারে অনিয়মের সত্যতার লিখিত অভিযোগ পেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

