শিরোনাম
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বাধ্য হবে- চরফ্যাশনে জামায়াত নেতা কাজী হারুন বাকেরগঞ্জে গণভোটের রায় ও জুলাই হতাকারীদের বিচারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি খাগড়াছড়িবাসীর শ্রদ্ধাঞ্জলি সন্ত্রাস বন্ধ না করলে জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে : জহির উদ্দিন বাবর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০ বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরিত বোমাটি ছিল হাতে তৈরি, নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ গৌরনদীতে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা বাকেরগঞ্জের এমপি আবুল হোসেন ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সন্তানদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা!

বিএনপির আন্তঃকোন্দলে খু*ন, আসামী জামায়াত নেতারা

আপডেট: September 30, 2025

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ (৫৫) হত্যা মামলাটি নিয়ে অপরাজনীতি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুইজন বিএনপি কর্মীর বাগবিতন্ডার জেরে এই হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মসজিদের ইমামসহ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাকর্মীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম হাওলাদার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে বলেন, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে করফাকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন ঘরামীর সাথে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথার কাটাকাটি হয় ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফের।

একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন ঘরামী কয়েকটি থাপ্পর মারেন আবদুল লতিফকে। এতে আবদুল লতিফ অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন-ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আল মামুন, ইসমাইল চৌকিদার, হিরু হাওলাদার ও মনির হোসেন। অথচ দায়েরকৃত মামলায় প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী এসব ব্যক্তিদের স্বাক্ষী রাখা হয়নি।

ইব্রাহীম হাওলাদার আরও বলেন, আবদুল লতিফকে চরথাপ্পর মেরেছে দেলোয়ার। কোন সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা দেখিনি। ওখানে উপস্থিত অন্যান্যরা উভয়কে ছাড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিজে আবদুল লতিফকে হাসপাতালে নিতে সাহায্য করেছি। অথচ মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়। যারা আদৌ সেদিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। এমনকি মসজিদের ইমাম সাহেবকেও আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে তার ছিল সরব উপস্থিতি। সেই ছবি এখনো অনলাইন ও ফেসবুকে রয়েছে।

করফাকর বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আবদুল লতিফ ভাই আমার মসজিদের মুসল্লী ছিলেন। আসরের নামাজের পর মারামারির সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি লতিফ ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাকেও ওই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন-লতিফের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করে একটি মহল রমরমা মামলা বাণিজ্য শুরু করতে চাচ্ছেন। যেকারণে নিহতের পরিবারকে জিম্মি করে মামলায় নীরিহ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ফলে অসংখ্য নিরিহ পুরুষ এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া হয়েছেন।

সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফেরদাউস বলেন, ঘটনারদিন আমি ছিলাম উজিরপুরে। সেখান থেকে আমি এলাকায় ফিরে মৃধাবাড়ি মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করি। এরপর শুনতে পাই করফাকর স্কুল প্রাঙ্গনে মারামারি হয়েছে। আমি আদৌ ঘটনাস্থলেই যাইনি। অথচ আমিসহ জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ নাজিমউদ্দিন ও জামায়াতের কর্মী জাহিদুল ইসলামকে ওই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন-বিএনপি নেতারা আমাদেরকে হত্যা মামলায় আসামি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এলাকায় দফায় দফায় মিছিল বের করছে।

মামলায় বাদীপক্ষকে জবরদস্তি করে জামায়াতের লোকদেরকে আসামি দিয়েছে বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ করে আমির মোহাম্মদ ফেরদাউস আরও বলেন, মামলার কারণে একদিকে নিরীহ লোকজন হয়ারানি হচ্ছে। অপরদিকে হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। তাকে এখন জামায়াত সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ঘটার অনেক সময় পরে আমি খবর পেয়েছি। অথচ আমাকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা এটিকে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। তারা নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে নির্দোষ লোকজনকে আসামি করেছে। জামায়াতের ওপরে দায় চাঁপিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নিচ্ছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।

মামলার বাদি ও নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি তিনজন আসামির নাম দিয়েছি। এই তিনজনের মধ্যে জামায়াতের কারো নাম ছিলো না, অন্যান্য নাম অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা বলতে পারবেন। আমি ন্যায় বিচার চাই।

এ বিষয়ে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব লোকদের আসামি করা হয়েছে তারা অনেকে ঘটনাস্থলে ছিল, অনেকে কাছাকাছি ছিল। কেননা আসামিরা সকলেই করফাকরের বাসিন্দা। আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলেতো পুরো উপজেলা জামায়াতের লোকজনকে আসামি দিতে পারতাম, তা তো দেইনি।

বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন, আমরা এটা নিয়ে কোন রাজনীতি করছিনা। ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা করছি। কেননা আবদুল লতিফ ছিল দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। হত্যাকারী দেলোয়ার বিএনপির কর্মী নয় দাবি করে রিয়াম উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন-সে জামায়াতের সমর্থক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার এসআই আরাফাত হাসান বলেন, মামলাটি তদন্তনাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বানারীপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) শতদল মজুমদার বলেন, হ্যাকান্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দিয়েছে। আসামি ও স্বাক্ষীদের নাম তারাই দিয়েছে। তবে কোন নির্দোষ ব্যক্তি আসামি হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আমরা প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবো।

উল্লেখ্য, সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে হত্যাকান্ডের শিকার হন। ২৮ সেপ্টেম্বর নিহতেরর স্ত্রী পারভীন বেগম বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে মামলার এজাহারভূক্ত দুই নম্বর আসামি তুহিনকে ভোলা থেকে র ্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network