আপডেট: মে ১৯, ২০২৬
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের বিরোধপূর্ণ অবস্থানের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছে নদীর পূর্বপাড়ে যাওয়ার জন্য ফেরিতে ওঠেন। সেখানে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। সভাটির আয়োজন করেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।তবে মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা তখন পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রায় ৪৫ মিনিট পর একই ফেরিতে করে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান মন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তিনি পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।
ঘটনাস্থলে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও।স্থানীয়দের দাবি, জামায়াত আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ঠেকাতেই বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হন।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি সেতুমন্ত্রী। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান। তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, সভার ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন।
উল্লেখ্য, লোহালিয়া নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটির অগ্রগতি থেমে যায়। পরে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে সেতুমন্ত্রীকে এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।এ ঘটনার পর বহু প্রত্যাশিত ‘স্বপ্নের সেতু’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

