আপডেট: September 9, 2026
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পানি থেকে উঠছে বুদবুদ, দিয়াশলাইয়ের কাঠি ধরতেই জ্বলে উঠছে আগুনের শিখা। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর গ্রামে গভীর নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর পর এমন ঘটনায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
নলকূপ থেকে কিংবা এটি বসানোর সময় পাশে তৈরি হওয়া ছোট কূপ থেকে গ্যাসের মতো দাহ্য পদার্থ বের হচ্ছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) মাধ্যমে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে বুধবার একটি আবেদন পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, শুরুতে নতুন বসানো নলকূপের পাশের ছোট কূপে পেঁপে গাছের ডগা দিয়ে সংযোগ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। পরে গ্যাস নির্গত হওয়ার স্থানে একটি পাইপ দিয়ে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানেও আগুন ধরলে জ্বলতে দেখা যায় শিখা। প্রায় ২৫ দিন ধরে এমন অবস্থা চলায় ঘটনাটি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। এমনকি ওই আগুনে রান্নাবান্না করতেও দেখা গেছে।জানা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল প্রায় এক মাস আগে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেন। এক রাত ও এক দিন ধরে নলকূপ স্থাপনের কাজ চলার সময় এর পাশে একটি ছোট কূপ তৈরি হয়। পরে নলকূপের ভেতর এবং ওই কূপে বুদবুদ দেখা যায়।
কামাল জানান, নলকূপ ও কূপ থেকে বের হওয়া পদার্থে দিয়াশলাই ধরালে আগুন জ্বলে ওঠে। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, এটি প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্য কোনো মূল্যবান ভূগর্ভস্থ সম্পদ হয়ে থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিষয়টি পরীক্ষা করা হোক।তবে এটি প্রাকৃতিক গ্যাস কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ভূগর্ভে দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা জৈব পদার্থ পচে তৈরি হওয়া মিথেনজাত গ্যাস, কোনো গ্যাসের পকেট কিংবা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ থেকেও এমনটি হতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই জানা যাবে, আসলে কী ধরনের পদার্থ বের হচ্ছে।
চরমোন্তাজ ইউনিয়নের প্রশাসক আবু ইউসুফ মো. সরওয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি বিস্তারিত খোঁজখবর নেব।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি আবেদন পাওয়া গেছে। বাপেক্সের মাধ্যমে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য বুধবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানো হবে।

