আপডেট: June 23, 2025
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া :এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা দাবি নিয়ে যখন আন্দোলন করেছে, সেই আন্দোলনকে অন্য দিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল পেতেই আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক সহযোগিতা। জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে এ অর্থ আন্দোলনে খরচ হত। সরকারকে বেকায়দায় ফেলে আওয়ামী লীগ সফল হতে চেয়ে ছিলো। কিন্তু বতর্মান সরকার তাদের সফল হতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগের কোটায় চাকুরী নিয়েছে তারা ছিলেন আন্দোলনের প্রথম সারিতে এবং বতর্মান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে এমনকি এনবিআরের চেয়ারম্যান কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেন।তাদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল – ছিন্ন করে বতর্মান সরকার একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আর সফল হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের প্রধান মাস্টারমাইন্ড জাহাঙ্গীর রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
সরকার এনবিআরকে ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি নতুন বিভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভালোভাবে নেননি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. শফিকুল ইসিলাম আকন্দ এবং মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। সুত্রে জানায়,শফিকুল ইসলাম আকন্দ চট্টগ্রাম কর্মরত থাকাকালে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এ বিষয়ে প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি তার বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাহমুদুজ্জামান কর অঞ্চল-৫ সহ বিভিন্ন কর অফিসে কর্মরত থাকাকালে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ উঠে। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আয়কর বিভাগের (ইনকাম ট্যাক্স উইং) কমিশনার গোলাম কবির এবং এনবিআর-এর সদস্য আবু সাইদ মোহাম্মদ মোশতাককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এ সকল কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যিনি তিনি বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য রয়েছে তাহার কিছু নমুনা তুলে ধরা হল। হপ্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আলাদা অফিস নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেন রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর এছাড়াও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, সমাজের প্রথম শ্রেণীর ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজের নির্ধারিত ফি নিয়ে সম্পদ কম দেখিয়ে রাজস্ব আদায় সহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর টঙ্গী-জোন-২ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তার এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে। কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট টঙ্গী-জোন-২ এর আওতাভুক্ত সকল কর্মরত কর্মকর্তা- কর্মচারিদের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, সমাজের প্রথম শ্রেণীর ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজের নির্ধারিত ফি নিয়ে নেন। এখানে ছোট, মাঝারি,বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান,কলকারখানার মহাজনরা কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারিদের মাধ্যমে তার নির্ধারিত ফি অতিরিক্ত নগদ ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭শত টাকা ঘুষ নেন।কোন কোন ক্ষেত্রে সরাসরি কলকারখানার মহাজনের কাছ থেকেও নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।সকল শিল্প কলকারখানার ফি এক রকম নয় এখানেও ভিন্নতা রয়েছে।সরকারি রাজস্ব কম দিয়ে বেঁচে যায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মহাজনরা। তার নির্ধারিত ফ্রি না দিলেই বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মহাজনদের। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় বিএনপি, জামাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানের মহাজনদের নানা বিধি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে একর্মকর্তার কাছে থেকে। অথচ অদৃশ্য শক্তির বলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ কর্মকর্তা। ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ! থাকা সত্ত্বেও রয়েছে বহাল তবিয়তে।সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে থাকা আওয়ামীলীগের অনুসারীরা গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কারন আর স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পুরো আমল জুড়ে এ কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে ফয়দা লুটেছেন। এ কর্মকর্তার সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের নেতাদের সঙ্গে ছিল নিবিড় সম্পর্ক। এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিলে আমল নিতো না কেউ কারণ আওয়ামী লীগের প্রিয়জনের তালিকায় তিনি । কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট টঙ্গী-জোন-২ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা বতর্মানেও ছাত্র জনতার মহান উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখনো সক্রিয় রয়েছেন।
অন্য দিকে জানা যায়, যাদের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর এত অপরাধের সাথে জড়িত তাদের এক এক করে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হচ্ছে। ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীর।তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের অনুরোধে বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলে আওয়ামী লীগ সফল হতে চেয়ে ছিলো। কিন্তু বতর্মান সরকার তাদের সফল হতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগের কোটায় চাকুরী নিয়েছে তারা ছিলেন আন্দোলনের প্রথম সারিতে এবং বতর্মান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে এমনকি এনবিআরের চেয়ারম্যান কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেন।তাদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল – ছিন্ন করে বতর্মান সরকার একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আর সফল হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের প্রধান মাস্টারমাইন্ড জাহাঙ্গীর রয়েছেন অগোচরে।
কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট টঙ্গী-জোন-২ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরের মতামত পাওয়া যায়নি।

