আপডেট: July 18, 2021
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে লাগাতার কয়েক দিনের মতো রোববারও দিনভর কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে এক পোশাক কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বিকেলে তাদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ১৬ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে।শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর ইসলাম হোসেন জানান, প্রায় ৮ ঘন্টা সড়ক অবরোধের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত গার্মেন্টসকর্মীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের জন্য চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওনা হয়। এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে আন্দোলনরত গার্মেন্টসকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে পুলিশের কনস্টেবল সাদিকুলসহ কয়েকজন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আন্দোলনরতদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ ২০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ১৬ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষুব্ধ গার্মেন্টসকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে সাড়ে ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান জানান, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের ব্যাপারে ঢাকায় বিজিএমইএ’র সাথে কারখানা কর্তৃপক্ষের আলোচনা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারখানার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরতরা জানায়, স্টাইল ক্র্যাফ্ট পোশাক কারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলতি বছরের মার্চ, মে ও জুন মাসসহ গত সেপ্টেম্বর মাসের পূর্ণ বেতন ভাতাসহ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর, ২০২০ সালের মার্চ ও আগস্ট মাসের শতকরা ৫০ ভাগ, অক্টোবর মাসের ৩৫ ভাগ, নবেম্বর মাসের ১৫ ভাগ বেতন পাওনা রয়েছে। এ ছাড়াও কারখানার কর্মচারীরা ইনক্রিমেন্টসহ তাদের চার বছরের বাৎসরিক ছুটির ও দুই বছরের ঈদবোনাসের টাকা পাওনা রয়েছে। তারা বেশ কিছু দিন ধরে এসব পাওনাদি পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধের একাধিকবার তারিখ ঘোষণা করলেও পরিশোধ করেনি।

