আপডেট: May 24, 2021
বাগেরহাট প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আজ সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ইয়াস নামে এই ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ মে) বিকেল পর্যন্ত বাগেরহাট উপকূলে ঝড়ের কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত না হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। আর দিনভর ভ্যাপসা গরম ও তাপদাহ অব্যাহত ছিল।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে ৪৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে দুর্যোগ কমিটির সভা ডেকে করণীয় বিষয় নির্ধারণ করেছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম জানান, বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার সব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ জেলার ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অল্প সময়ের নোটিশে উপকূলবাসী যাতে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারে তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ও আলোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, নৌবাহিনী কোস্টগার্ডসহ সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঝড় পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক এক কোটি ৮৭ লাখ টাকাসহ ২৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা হয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন থেকে উপকূলীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে সর্তক থাকার কথা বলা হয়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চল বিশেষ করে মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। এসব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন করিব বলেন, উপকূলীয় চারটি উপজেলায় ৪৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইয়াস মোকাবিলায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তৎপর রয়েছেন বলে জানা গেছে।

