আপডেট: May 2, 2021
বরগুনা প্রতিনিধি:; বরগুনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় তৈরি আউশ বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতির ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা প্রতিবছরের মতো এ বছরও আউশের হাইব্রিড, উফসি ও স্হানীয় জাতের বীজতলা তৈরি করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলায় চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার, ৭৩৬ হেক্টর জমিতে আউশ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এক টানা ৭-৮ মাস যাবত কোনো বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির ওপর বেশি ভরসা করেই বীজতলা তৈরি হয়ে থাকে। রোদের তীব্র প্রখরতায় আউশ বীজ ফেটে চৌচির হয়ে যাওযায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্য বৃষ্টি না হলে বীজতলা থাকবে না। খাল-জলাশয় শুকিয়ে পানি শূন্য হয়ে গেছে। নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ায় বীজ তলায় নদীর পানিও ব্যাবহার করা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু আউশ বীজতলা নয় বৃষ্টি না হওয়ায় অন্যান্য ফসল যেমন, হলুদ, মরিচ, পাঠ, শাকসবজি ক্ষেতও শুকিয়ে যাচ্ছে। নদী থেকে পানি এনে সেচ দেবার ব্যবসাও বর্তমানে নেই লবণাক্ততার কারণে। বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী গ্রামের কৃষক নুরুল আলম বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে আউশ বীজতলা করেছি, খড়ার কারণে লেদা পোকা এসেছে বীজে, নদী থেকে যে পানি আসছে তা লবণ পানি। বৃষ্টি না হলে বীজতলা রক্ষা করা যাবে না। এরই মধ্যে অনেকের বীজতলা পুড়ে গেছে।
বরগুনার চালিতাতলী গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ১২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছি, খড়ায় খাল শুকিয়ে গেছে। একটি মেশিন এনে পুকুরের পানি দিয়ে বীজতলায় সেচ দিচ্ছি।
কৃষক মোস্তাফা বলেন, সবার পক্ষে মেশিন দিয়ে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি না হলে অল্প দিনের মধ্যই বীজতলা পুড়ে যাবে।
বরগুনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এস. এম. বদরুল আলম বলেন, বৃষ্টি না হলে আউশ বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে উঠা অসম্ভব হবে। কেউ কেউ পুকুরের পানি বীজতলায় ব্যাবহার করলেও তাদের সংখ্যা কম। সাধারণত এই মৌসুমে বৃষ্টির ওপর নির্ভর করেই আউশ বীজতলা তৈরি করে কৃষক। সঠিক সময় বীজ রোপণ করতে না পারলে আউশ উৎপাদনও ব্যাহত হবার আশংকা করছেন তিনি।

