এক হাত-দুটো পা ছাড়া শিশুটি,তাকে কিভাবে বড় করবেন, দুশ্চিন্তায় হতদরিদ্র বাবা-মা

আপডেট: November 10, 2021

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:: সুলতানার বয়স সবে ৮ মাস। শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে এ বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে। স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে মা খাদিজা বেগমের। তার স্বামীর নাম মো. সুলতান হাওলাদার। তাদের পরিবারের প্রত্যাশা ছিল কন্যাসন্তান হবে। প্রথম সন্তান ছেলেটার বয়স ১৮ বছর। দীর্ঘ সময় পর এ সন্তান আসে খাদিজার গর্ভে। প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু প্রতীক্ষিত সন্তানটিকে কোলে নিয়ে খাদিজা দেখলেন, তার নিতম্বের নিচ থেকে দুটি পা নেই, নেই একটি হাতও। শুধু একটি বাম হাত নিয়ে তার পৃথিবীতে আগমন। ‘দেখার পর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলাম।’ বলেন গর্ভধারিণী মা খাদিজা।

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের তীরবর্তী ছোটটেংরা গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর মো. সুলতান হাওলাদারের ঘরে এমন বিকলাঙ্গ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে।

সুলতান হাওলাদার দিনমজুর। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। কখনো সাগরে মাছ ধরার শ্রমিক, ক্ষেত-খামারের মজুর ইত্যাদি। বেড়িবাঁধের পাশে পাঁচ শতক জমি আছে তার। সেখানে ছোট্ট একটি ঘর। পাশের বেড়িবাঁধ সংস্কার হওয়ায় কিছু জমি বাঁধের মধ্যে চলে গেছে। চাষের জমি নেই।

খবর শুনে সুলতান হাওলাদারে বাড়ি পৌঁছতে সদর ইউনিয়নের টেংরা বাজারের কাছে গিয়ে এক পথচারীর কাছে জানতে চাইলে সহসাই তিনি জানালেন, ওই সামনেই সেই বিকলাঙ্গ শিশুর বাড়ি। এ গ্রামের সবাই জানে এমন একটি শিশু জন্ম নিয়েছে কয়েক মাস আগে।

তাদের ঘরে ঢুকে দেখা গেল, ঘরের বারান্দায় কাঠের চকির ওপর একটি বিছানায় শুয়ে আছে সুলতানা। পাশে তার বাবা মো. সুলতান হাওলাদার। শিশু সুলতানার কপালে ‘অশুভদৃষ্টি’ মোচনের জন্য কাজলের টিপ। সুলতানা হাসছে, শুধু বাম হাতটি নাড়ছে বারবার। সে জানে না তার চলাফেরার জন্য অতি প্রয়োজনীয় পা দুটি নেই। নেই তার ডান হাত। তাকে বসানো যায় না, কারণ কোমড়ের নিচে নিতম্বের পর থেকেই কিছু নেই। তাই ভারসাম্য রাখা যায় না। তার জননেন্দ্রিয় ও মলদ্বার আছে। চোখ ও কান স্বাভাবিক কাজ করে। তার শারীরিক বৃদ্ধিও স্বাভাবিক। স্বভাবগত হাসিখুশি মুখাবয়ব। কেউ তাকে ডাক দিলে হাসে। কিন্তু সে জানেনা বা অনুভবে নেই তার অতি প্রয়োজনীয় তিনটি অঙ্গ নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বুঝতে শুরু করবে।

জানতে চাইলে সুলতানার বাবা মো. সুলতান হাওলাদার এই প্রতিনিধিকে বলেন, দিন আনি দিন খাই। আমার কপালে এমন সন্তান দিল, আমি কিভাবে তাকে বড় করব। জন্মের পর সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গিয়েছি, পাইনি কোনো সাহায্য।

শিশুর মা খাদিজা বেগম বলেন, সে বসতে পারে না। এমন ভাগ্য তার, ডান হাতের কাঁধের নিচ থেকে দুই ইঞ্চি পরিমাণ হাত সঙ্গে নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তাকে কীভাবে বড় করব? আমার মৃত্যুর পর ওর কী হবে?

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত স্বামী অথবা স্ত্রীর জিনগত কারণে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে। ঢাকাস্থ শিশু হাসপাতালে এ ব্যাপারে সঠিক উপদেশ দিতে পারে।

উত্তরা মেডিক্যাল মহিলা কলেজের প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. আক্তারুননেছা পারভীন বলেন, গর্ভকালীন নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network