আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। এই উন্নয়নের কথা আমরা প্রকাশ্য দিবালোকে বলি এবং এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব বলেই বলি। যেটা বাস্তবায়ন করতে পারব না সেটা আমরা বলি না। আমরা বেহেশতের টিকিটের কথা বলি না। কারণ, আমরা জানি এটা বাস্তবায়ন করতে পারব না। রবিবার (৮ই ফেব্রুয়ারি) বিকালে জীবননগর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে গণমিছিল শেষে জীবননগর মিনি স্টেডিয়ামে তাৎক্ষণিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।
তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে কেউ কেউ পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করে যে অমক দলের লোক, অমক ধর্মের লোক ভোটকেন্দ্রে গেলে দেখে নেব। এ ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি যদি কেউ দেয় তাহলে আমাদের দায়িত্ব হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তারা আমাদের শত্রু নয়, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা প্রচারণায় বলে বেড়ায় নারী ভোটাররা নাকি সব ভোট তাদের দিয়ে দিয়েছে। এটা কি সঠিক? সঠিক নয়, ভুয়া। যদি নারীদের প্রতি তাদের সম্মান থাকত, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন তাহলে ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত এক জন নারীকে হলেও নমিনেশন দিতেন। উনাদের সম্মানীয় আমির একথাও বলেন, উনাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো নারীর আসিন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। কিন্তু আমাদের দল যোগ্যতায় বিশ্বাস করে বলে বহু নারী নেতৃত্বকে নমিনেশন দিয়েছে।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ভোট চান মায়েদের, মেয়েদের, বোনদের কাছে কিন্তু তাদেরকে অতিসম্মান দেখাতে যাবেন না, যে সম্মান আপনারা ১৯৭১-এ দেখাননি। আপনারা মুখে বলবেন একটা আর কাজে করবেন আরেকটা এটাতে আমাদের আপত্তি।

বাবু খান বলেন, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের মানুষের হৃদয়েও ঠাঁই করে নিয়ে নিজেকে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন৷ আমরা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। আমরা চাই নারী-পুরুষ মিলেমিশে দেশটাকে গড়ব।
জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবিরের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান, সাবেক মেয়র আশরাফুল ইসলাম।
এর আগে রবিবার বিকালে জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জীবননগর মুক্তমঞ্চে এসে জড়ো হয়। পরে মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে সেখান থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে জীবননগর মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। জনসমুদ্রে পরিণত এ গণমিছিল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত ছিল।

