শিরোনাম
গৌরনদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন লঞ্চঘাটে ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার চরফ্যাশনে ৮ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ আমতলীতে স্কুল শিক্ষার্থী ইমন হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্টে ঐতিহাসিক জয় ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, বাকেরগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি শারীরিক প্রতিবন্ধী জহিরুল ও ইদ্রিস মল্লিকের পাশে দাঁড়ালেন লন্ডন প্রবাসী মিজানুর রহমান খান নরওয়ে প্রবাসী সজিব! পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) ও জাকের পার্টির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল বিভাগে কর্মীসভা ও কেন্দ্রীয় মিশন অনুষ্ঠিত ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথেই ভোলার সাংবাদিকলীগ প্রেসক্লাব ছেড়ে পালিয়েছে

আপডেট: August 27, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক ঃ

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন সহ স্বৈরাচার সরকারের পতনের সাথেই ভোলার সাংবাদিকলীগ ও “র” এর জেলার নেতারা প্রেসক্লাব ছেড়ে পালিয়েছেন। ৫ আগষ্ট সোমবার দুপুর ১টার পর থেকেই ভয় ও আতঙ্কে একে একে ক্লাব তথা ভোলা ছেড়ে পালিয়েছেন। একই সাথে চুরি করে নিয়ে গেছেন প্রেসক্লাবের সকল গুরুত্বপূর্ন কাগজ পত্র। সঙ্গত কারণেই টানা তিন সপ্তাহ যাবৎ তাদের কোথাও খুজে পাওয়া যায়নি।

ভোলা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা ও ক্লাবের একাধিক সদস্যরা জানান, কথিত সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক বাংলার কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক “র” এর জেলার নেতা ও দৈনিক যুগান্তর এবং আর টিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি অমিতাভ রায় অপু, দৈনিক দেশরুপান্তর ও বৈশাখী টিভি ভোলা জেলা প্রতিনিধি হোসাইন সাদী, প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি অচিন্ত্য মজুমদার, সংবাদ ও যমুনা টেলিভিশনের ভোলা জেলা প্রতিনিধি জুয়েল সাহা, এটিএন বাংলার ভোলা জেলা প্রতিনিধ এম সিদ্দিকুল্লা, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন সুলতানসহ আরো অনেক সাংবাদিকলীগ ও ভারতীয় “র” এর নেতারা ভোলা ছেড়ে পালিয়েছেন।
২০২০ সালের দিকে হলে প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সাংবাদিকদেরকে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ এর নির্দেশে প্রেসক্লাব থেকে বেড় করে দিয়ে পুরো ক্লাবকে কুক্ষিপ্ত করে নিজেদের দখলে নিয়ে সাংবাদিকলীগ কার্যালয় বানিয়েছেন। তার পর থেকেই পুরো জেলায় শুরু করেন তাদের লুটপাট সহ বিভিন্ন দিকে চাঁদাবাজি। কেউ মালিক হয়েছেন মার্কেটের, কেউ নিয়েছেন পার্ক, কেউবা দিয়েছেন পর্যটন কেন্দ্র সহ করেছেন বিভিন্ন উপজেলায় চড়দখল। দিনের পর দিন অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন অর্ডার টাকা, গড়েছেন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য সহ বাড়ি-গাড়ি। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন কয়েক কথিত সাংবাদিকরা। তাদের বানিজ্যে দিশেহারা হয়ে ভোলার সাধারণ ব্যবসায়ী, বিভিন্ন অফিসের কর্মচারী কর্মকর্তা গন। বাদ পড়েনি জেলা সাত উপজেলার জনপ্রতিনিধি সহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারররাও।
এছাড়াও নদীপথে বিভিন্ন চোরাই কারবারি, ফেরী ঘাট, লঞ্চ ঘাট, মাছ ঘাট, বালু চোরেরাও তাদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য রীতিমতো দিয়ে আসছে তাদেরকে মাসোয়ারা।
তাদের কৃতকর্মে বর্তমানে প্রকৃত সাংবাদিকদের চেহারা দেখলেও ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়।
দীর্ঘদিন যাবত এই সকল বিষয় নিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের সাথে বাক-বিতণ্ডা হয়ে আসলেও তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনীতি মুক্ত ভোলা প্রেসক্লাবকে সেটাতো সরকারের দলীয় কার্যালয় বানিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ওই সকল সাংবাদিকলীগ দেশব্যাপী সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান করেছিলেন। বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রেসক্লাবের সামনে দাড়াতে দেননি। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোন ধরনের সংবাদ পরিবেশনতো দূরের কথা, উল্টো বরাবরই ছাত্রদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর যাবত ক্লাবের একাউন্টের মোট অংকের টাকা, ক্লাবের প্রথম ফ্লোরে রেষ্টুরেন্ট, চতুর্থ ফ্লোরে জিমনেসিয়াম ভাড়ার টাকা, বিভিন্ন সময়ে প্রেস কনফারেন্সের জন্য হল রুম ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
২৪ সালের ৫ আগষ্ট সোমবার স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর পরই দুপুরের দিকে তারা ক্লাবের-চেক, জমা বই, রেজিষ্টার ও রেজুলেশনের সকল খাতা বই ও চাদা আদায়ের রশিদ বই এবং গুরুত্ব পুর্ন কাগজ পত্র নিয়ে বলা ছেড়ে পালিয়ে যান। এখন পর্যন্ত ভোলা শহরে কিংবা কোন স্থানে তাদেরকে দেখা যায়নি।
এদের মধ্যে আবার কয়েকজন সাংবাদিকলীগ বিভিন্ন স্কুল কলেজে চাকরিও করেন। অধিকাংশ সময়ই তাদেরকে দেখা যায় বিভিন্ন সভা সমাবেশ কিংবা দলীয় প্রোগ্রামে নিজের কর্মস্থল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি না নিয়েই সাংবাদিকতার পেশায় দৌড়ঝাপ করেন। এতে করে শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছে ওই সময়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থেকে।
এদিকে গেল ৫ আগস্ট থেকে কথিত ওই সকল সাংবাদিকলীগ ও ভারতীয় “র” এর নেতাদের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা কোথায় আছেন তা তাদের পরিবারের সদস্যরাও জানেননা বলে জানান।
একটি সুত্র জানিয়েছেন, অমিতাভ রায় অপু লক্ষিপুরের এক গ্রামে রয়েছেন, আর অন্যান্যরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন।
যদিও র্দূনীতিবাজ কথিত সাংবাদিকলীগ পালিয়ে যাওয়া বিষয়টি পুরো ভোলার টক অব দ্যা টাউন। দীর্ঘদিন যাব তাদের বিভিন্ন ধরনের কুকর্মের জন্য অবিলন্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়া করানোর জন্য জোর দাবী জেলার প্রকৃত সাংবাদিকসহ ছাত্র-জনতাা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network