আপডেট: May 16, 2021
অনলাইন ডেস্ক:: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচরে করোনার কারণে স্থগিত হওয়া এক ইউনিয়নের নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৭ জনকে আটক করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বেপারীর মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। করোনা মহামারিতে স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে আতিকুর রহমান মাতবর ও মনোয়ার হোসেন বেপারী দুজনই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের আকনকান্দি গ্রামের একটি রাস্তায় আতিক মাতবরের সমর্থক মিরাজ আকন ও মনোয়ার বেপারীর সমর্থক তুষার বেপারীর সাথে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তুষার বেপারী মিরাজ আকনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কুতুবপুর বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মনোয়ার বেপারীর সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্য আ. সালাম মাতবরকে (৬৫) তার দোকানে ঢুকে আতিক মাতবরের সমর্থক কাউসার বেপারীসহ কয়েকজন মিলে মারধর করেন। এরই জের ধরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাহেব বাজারে মনোয়ার বেপারীর বাড়ি সংলগ্ন আতিক মাতবরের সমর্থক দুলাল বেপারীর একটি মার্কেটে মনোয়ার বেপারীর ছোট ভাই মানজার বেপারীর নেতৃত্বে ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় দুলাল বেপারীসহ আতিক মাতবরের সমর্থকরা মার্কেটের সামনে জড়ো হলে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে তাদেরকে লক্ষ্য করে মানজার বেপারীর নেতৃত্বে গুলি ছোড়া হয়। এসময় মাহবুবুর রহমান (৩৮), এসকান বেপারী (৪০), কাউসার বেপারী (৩৭), আ. রাজ্জাক মাদবর (৬৫), ওবায়দুল বেপারীসহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপড়্গে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন বেপারী, শাহাদাৎ বেপারী, কাদির বেপারী, আলমগীর বেপারীসহ ৭ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. এমদাদুল হক রাসেল বলেন, রাতে সংঘর্ষে আহত কয়েকজন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে ৭ জন রোগী গুলিবিদ্ধ ছিলেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিরাজুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

