আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৬
এম সাইফুল:: দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপেশায় কাজ করে যাচ্ছেন সাংবাদিক মামুন-অর-রশিদ। দক্ষিণাঞ্চলের গণমাধ্যমে তিনি একজন পরিচিত মুখ, যিনি সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সংবাদমাধ্যম পরিচালনার মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি স্থানীয় সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কথা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, উন্নয়ন, সামাজিক অসঙ্গতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। পেশাগত নিষ্ঠা, সাহসী মনোভাব এবং নিরলস পরিশ্রম তাকে বরিশালের সাংবাদিক সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
জন্ম ও পারিবারিক জীবন
মামুন-অর-রশিদ ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাদলপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আমিন উদ্দিন হাওলাদার এবং মাতা মরহুমা রিজিয়া বেগম। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত, কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষণপ্রবণ। গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা, মানুষের সুখ-দুঃখ এবং সমাজের বৈচিত্র্য তাঁর চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করে। পরবর্তীকালে এই অভিজ্ঞতাই সাংবাদিকতা জীবনে সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সংবেদনশীলতার ভিত্তি গড়ে দেয়।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ব্যস্ত পেশাজীবনের মধ্যেও পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে চলেন।
শিক্ষাজীবন
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিজ এলাকায় সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হন। ২০০৬ সালে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা, লেখালেখি এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর।মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি একটি প্রাইভেট চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। ধীরে ধীরে সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকতাকেই নিজের জীবনের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।
সাংবাদিকতায় পথচলা
সংবাদপেশায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করার মাধ্যমে। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, ফিচার লেখা এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি দ্রুত দক্ষতা অর্জন করেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যনির্ভর সংবাদ, বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনলাইন সংবাদপোর্টাল বরিশাল বাণী-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। পাশাপাশি তিনি জাতীয় দৈনিক বর্তমান-এর বরিশাল ব্যুরো চিফ, দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এবং আপডেট নিউজ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেছেন ।
সম্পাদক হিসেবে ভূমিকা
একজন সম্পাদক হিসেবে মামুন-অর-রশিদ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, নির্ভুলতা এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত সংবাদমাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ, সংস্কৃতি, আইনশৃঙ্খলা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়মিত গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত অনেক সংবাদ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রেখেছে—এমন দাবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
সংবাদ দর্শন
মামুন-অর-রশিদের সাংবাদিকতা দর্শনের মূল ভিত্তি হলো—
সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ
জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া
বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা
ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা
প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা
তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমই গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
সংগঠন ও নেতৃত্ব
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। পেশাগত অধিকার, সাংবাদিকদের কল্যাণ এবং গণমাধ্যমের উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।
২০২৬ সালে তিনি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন । তাছাড়া বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন যাবত।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন। উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
২০১৪ সালে সাংবাদিক গিয়াস কামাল স্মৃতি পদক।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক।
২০১৮ সালে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা প্রদত্ত মাওলানা আকরম খাঁ পদক।
সাহিত্যচর্চা
সংবাদ প্রতিবেদনের পাশাপাশি তিনি ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক লেখালেখিতে আগ্রহী। সাহিত্যচর্চা তাঁর ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ব্যক্তিত্ব
সহকর্মীদের কাছে তিনি সহজ-সরল, আন্তরিক ও সহযোগিতাপ্রবণ মানুষ হিসেবে পরিচিত। নতুন সাংবাদিকদের উৎসাহ দেওয়া, সংবাদ সংগ্রহে দিকনির্দেশনা প্রদান এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মূল্যায়ন
একজন সাংবাদিকের সাফল্য কেবল তাঁর প্রকাশিত সংবাদে নয়, সমাজে তার প্রভাবেও প্রতিফলিত হয়। মামুন-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বাস্তবতাকে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কর্মজীবন দেখায় যে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার একজন সাংবাদিককে মানুষের আস্থার প্রতীক করে তুলতে পারে।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জও বদলেছে। ডিজিটাল সাংবাদিকতা, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তারের এই যুগে সত্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মামুন-অর-রশিদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সংবাদপেশার প্রতি অঙ্গীকার আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশা সংস্লিষ্টদের।

