শিরোনাম

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, নবজাতকের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

আপডেট: August 25, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নেত্রকোণা প্রতিনিধি:: নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর বাবা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিলের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।তিনি বলেন, ডিএনএ প্রতিবেদনে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। মামলাটির বিচারকাজ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসক শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্দেশে গত ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর গত ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে নবজাতকের বাবা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network