আপডেট: August 25, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক:: খামারির প্রতিনিধিদের কৌশলে পিকআপ থেকে নামিয়ে প্রায় এক হাজার হাঁসের বাচ্চা নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে চালক ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা পিকআপচালক হাবিবুল্লাহ (২৪) ও একই এলাকার দ্বীন ইসলামের ছেলে মো. এখলাস (২২)।
পুলিশ জানায়, পিকআপ থেকে ফেলে দেওয়ায় খামারির প্রতিনিধি মো. আরিফ হোসেন ও মো. আল-আমিন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরিফের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং মাথায় আঘাত লেগেছে।
আহত আল-আমিন জানান, ভোলা থেকে লাহারহাট ফেরিঘাটে আসার পর পিকআপচালক তাদের বলেন, পিকআপটি ওপরে ওঠানোর পর তাদের নেওয়া হবে। চালকের কথামতো তারা পিকআপ থেকে নামলে চালক দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দুজন পিকআপের পেছনে ঝুলে পড়েন এবং ঝুলন্ত অবস্থায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পিকআপটি দপদপিয়া টোলঘরে পৌঁছালে আরিফ চালক ও তার সহযোগীকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি আহত হন। পরে পিকআপের পেছনে ঝুলে থাকা আল-আমিনকেও ফেলে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান চালক।ওসি আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, ভোলা থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে পিরোজপুরের এক খামারি পিকআপে করে নিয়ে আসছিলেন। ভেদুরিয়া ফেরিঘাটে পিকআপের চালক খামারির দুই প্রতিনিধিকে কৌশলে নামিয়ে দেন। পরে পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা পিকআপের পেছনে ঝুলে পড়েন। দপদপিয়া টোলঘরে পৌঁছালে আরিফ হোসেন পিকআপের চালকের পাশের আসনে থাকা সহযোগীকে চেপে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় চালক দ্রুতগতিতে পিকআপ চালিয়ে আরিফকে রাস্তায় ফেলে দেন। পরে অপর প্রতিনিধিকেও ফেলে দিয়ে পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যান।ওসি আরও জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে। পিকআপ থেকে পড়ে আহত আরিফকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অপর প্রতিনিধি আল-আমিন থানায় এসে ঘটনার বিস্তারিত জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিকআপভর্তি ৯৭০টি হাঁসের বাচ্চা উদ্ধার এবং চালক ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়।

