আপডেট: July 22, 2020
অনলাইন ডেস্ক: সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনা দুর্যোগের মধ্যেও একদিকে চলছে সরকারের লুটপাট, অন্যদিকে চলছে বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক ও কর্মহীন নিরন্ন মানুষের আহাজারি। এ সরকার কখনোই জনগণের উন্নয়নে কাজ করে না। তারা শুধু মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে নিজেদের লোকদের পকেট ভারী করতে অতি ব্যস্ত।
আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক দল আয়োজিত মানববন্ধনে রিজভী এসব কথা বলেন। ঈদের আগে সব কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পরিশোধ, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো খুলে দেওয়া, সরকার ঘোষিত প্রণোদনার টাকা শ্রমিকদের দেওয়া ও বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন করে শ্রমিক দল।
এতে রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল বন্ধ করায় সেসব কারখানার শ্রমিকদের বাঁচার কোনো অধিকার থাকল না। তাঁদের এখন মানবেতর অবস্থা। মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ। আজকে সরকারের একটি দপ্তরে একটি বঁটি কিনতে খরচ হচ্ছে ১০ হাজার টাকা, একটি চামচ এক হাজার টাকা, ল্যাপটপ কিনতে দাম দেখিয়েছে দুই লাখ টাকা। এভাবে জনগণের টাকা লুটে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারা আসলেই করোনার চেয়ে দুর্নীতি আর লুটপাটে শক্তিশালী।’
রিজভী আরো বলেন, ‘মহামারি দুর্যোগেও বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, সবজিসহ সব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। তাহলে বুঝুন শ্রমিকের কী অবস্থা? গ্রামের মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। এ জন্যই আওয়ামী লীগ করোনার চেয়ে শক্তিশালী, যা তাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঠিকই বলেছেন।’
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজকে বিশ্বে সিনথেটিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা কেন করা হলো? উদ্দেশ্য হলো লুটপাটের জন্য। অথচ পাট দিয়ে ২০০টি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব, যা বিশ্বে রপ্তানি করে বছরে বহু টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য মানুষ বেকার ও কর্মহীন হয়ে গেছে। অথচ সরকারের উচিত ছিল শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এগিয়ে আসা।’
রিজভী আরো বলেন, ‘আজকে একদিকে রিজেন্ট-জেকেজির লুটপাট, অন্যদিকে সরকারের দুঃশাসন ও নিরন্ন মানুষের আহাজারি। আজকে কোথায় সরকারের উন্নয়ন? সামান্য বন্যায় ভেসে যায় গরিব মানুষের বাড়িঘর। ভেসে যায় গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষেত। দেশের অধিকাংশ এলাকা বন্যায় তলিয়ে গেছে। সরকারের এসব নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।’
শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শ্রমবিষয়ক হুমায়ূন কবির খান, ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা, মেহেদী আলী খান, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, মফিদুল ইসলাম মোহন, জুলফিকার মতিন সুমন ভুঁইয়া, আলহাজ উদ্দিন প্রমুখ।

