আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর
সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ই জানুয়ারি) সকাল ১০টার সময় জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে তাকে পৌর কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানাজা শেষে মরহুম বিএনপি নেতার বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ভাইকে সেনা অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত দুইদিন ধরে অনেকেই বলছেন এর সঠিক বিচার হবে। এটি শুধু মুখের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার সময় একই জায়গায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের পিপি মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ই জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর বসুতিপাড়ার মৃত আতাহার মাস্টারের ছেলে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের একটি দল। পরে তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে জীবননগর হাসপাতাল এলাকা।
ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মঙ্গলবার দুপুরে সেনাবাহিনীর ভেরিফায়ড ফেসবুক পেজে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরবর্তীকালে আটককৃত ব্যক্তির প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল উক্ত ফার্মেসিতে তল্লাশি পরিচালনা করে ১টি ৯ মি. মি. পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরইমধ্যে উক্ত ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সেনা সদস্যদেরকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবং সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সেনাবাহিনীর এ বক্তব্য প্রত্যাখান করে দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘এটা যৌথ অভিযান ছিল না। শুধুমাত্র সেনাবাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করেছে। তাকে আটক করে সেনা হেফাজতে নিয়ে তার উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
আমিনুর রহমান নয়ন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

