১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

প্রেম-বিয়ে ও তালাক, অতঃপর বিষপান

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল ব্যুরো:: পরিবারের অমতে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছাড়েন তরুণী। বিয়েও করেছিলেন প্রেমিককে। কিন্তু সেই বিয়ে টেকেনি বেশিদিন। চার মাসের মাথায় তরুণীকে গোপনে তালাক দেয় স্বামী সিদ্দিকুর রহমান সাগর।

এ নিয়ে আদালতে বিচার চাইতে গিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকেদের কটাক্ষের শিকার হন ভুক্তভোগী। তাই ক্ষোভে-ঘৃণায় আদালত থেকে ফিরে কাফনের কাপড় ও দাফনের জিনিসপত্র নিয়ে পার্কে গিয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই তরুণী।

সোমবার দুপুরে বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী মুক্তিযোদ্ধা পার্কে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা তরুণী বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবেরহাট এলাকার বাসিন্দা।

চিকিৎসাধীন ওই তরুণী বলেন, ‘সদর উপজেলার সাহেরহাটের খোন্তাখালী এলাকার ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিকুর রহমান সাগরের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। ২০২৫ সালের ২২ মে বিয়ে করেন তারা। কিন্তু আমার পরিবার গরিব হওয়ায় বিয়েতে সম্মতি ছিল না সাগরের পরিবারের। এ কারণে বিয়ের চার মাসের মাথায় গোপনে আমাকে তালাক দেয় সাগর।’তরুণীর ফুফাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মামাতো বোনের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে সাগর তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। একপর্যায় তিনি সাগরের বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় কাজি অফিসে তাদের বিয়ে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের পর তাকে শ্বশুরবাড়িতে না নিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিছুদিন পর শ্বশুর তাকে ঢাকায় নিয়ে গর্ভপাত করিয়ে বাড়িতে পাঠায়। এর চার মাস পরেই গোপনে তালাক দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন আমার মামাতো বোন।’সাইফুরল আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলাও করেন। সোমবার সেই মামলায় হাজিরার তারিখ ছিল। তিনি আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তার শ্বশুর এবং দেবরসহ তাদের স্বজনরা তাকে নিয়ে নানা ধরনের অশালীন মন্তব্য করে। এ কারণে আদালত থেকে ফিরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় আমার বোন।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বরিশাল জেলা পুলিশ সদস্য মো. জীবন বলেন, ‘ওই তরুণী পার্কের বেঞ্চে শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন। একদল কিশোরদের কাছ থেকে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, তরুণী পার্কের বেঞ্চের ওপর শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। পাশেই বিষের বোতল পড়েছিল। এছাড়াও কাফনের কাপড়সহ দাফনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সব কিছুই তার সাথে ছিলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।’

শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ‘তরুণী কীটনাশক পান করেছে। হাসপাতালে আনার পর তার স্টমাক ওয়াশ দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন।’এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network