১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

শিরোনাম
সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তাল জীবননগর বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সোহেল রানা কুড়িগ্রামে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি সংগ্রহ করার অপরাধে ৪ লাখ টাকা জরিমানা জেলা পর্যায়ে বাকেরগঞ্জের সঞ্চিতা কর্মকার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত পায়রা সেতু থেকে নদীতে কলেজছাত্রীর ঝাঁপ, সেনাসদস্য ও জেলেদের তৎপরতায় প্রাণ রক্ষা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন দুই প্রার্থী, খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বাড়ল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গৌরনদীতে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ সারাদেশে ৫ লাখের অধিক আনসার সদস্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভা

সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তাল জীবননগর

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর 

জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫৪) সেনা হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার (১২ই জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তাল হয়ে উঠে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এমন দাবি তুলে হাসপাতালের সামনে রাত থেকে এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। অবরোধ করা হয়েছে হাসপাতালের সামনের জীবননগর-দর্শনা আঞ্চলিক মহাসড়ক।

নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু জীবননগর পৌরশহরের বসুতিপাড়ার মৃত আতাহার মাস্টারের ছেলে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ঘটনায় তিনি সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন।

রাতে ঘটনার বিষয়ে উপস্থিত সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি সংবাদকর্মীদেরও হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তবে গেটে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেন, ডাবলুর ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করেন, সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রচণ্ড ভয়ে ডাবলু স্ট্রোক করে মারা গেছেন। নির্যাতনের অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।

গতকাল রাতে হাসপাতাল গেটের সামনে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজের প্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের একটি দল রাত ১০টার দিকে আটক করে। পরে সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে নেতাকর্মীরা হাসপাতাল গেটের সামনে ভিড় করতে থাকেন। তবে হাসপাতালে প্রবেশের প্রধান গেট বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। হাসপাতালে প্রবেশে গণমাধ্যমকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁধা দেওয়া হয়। এসময় নেতাকর্মীরা হাসপাতাল গেটের সামনে একত্রিত হয়ে দোষী সেনা সদস্যদের শাস্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কে গাছ ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয় যানবাহন চলাচল।

খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। ভোর ৪টার দিকে তিনি হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করেন। এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বলেন।

এদিকে সোমবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মী হাসপাতাল গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

নিহত ডাবলুর ভাই ও জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ভাই পুরোপুরি নিরপরাধ ছিলেন। তাকে যেভাবে পেটানো হয়েছে তা অমানবিক। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর শামসুজ্জামান ডাবলু অসংখ্যবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মাঠে-ঘাটে রাত কাটিয়েছেন। ৫ই আগস্টের পর তিনি সেনা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করবেন এটা মেনে নেওয়ার মতো না।’

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোকছেদুর রহমান রিমন বলেন, ‘এর আগেও ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। শনিবার রাতে আমিসহ আমার নিরপরাধ ভাইদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে সেনাবাহিনী। তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।’

নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে একজন বলেন, ‘ডাবলু ভাইকে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে মারা হয়েছে। এ ঘটনায় আমিসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি সাক্ষী আছেন।’

মঙ্গলবার সকালে আবারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘রাত থেকেই আমি সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। দলের হাইকমান্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যারা তাকে হত্যা করেছে আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। সঠিক বিচারের বিষয়ে প্রশাসন আমাদের অবশ্যই নিশ্চয়তা দিবে।’

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘নিহত শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তার বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য যা যা করার দরকার আমি নিজে তা করব। আমাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে দেন। আপনাদের দাবির সাথে আমি একমত। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে।’

দুপুর দেড়টার পর জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডাবলুর লাশ বের করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মঙ্গলবার দুপুরে সেনাবাহিনীর ভেরিফায়ড ফেসবুক পেজে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবং সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network