আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২৬
ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর
চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্টে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইকালে পুলিশের সাথে চরম দু্র্ব্যবহারের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ই জানুয়ারি) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আটক তিন যুবকক হলেন- উথলী গ্রামের আজগার আলীর ছেলে রাজু হোসেন (২৫), রায়হান আলীর ছেলে রিওন মিয়া (২৬) এবং দর্শনা থানার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাওন (২৭)।
জানা যায়, রাজু ও শাওন পার্টনারে পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাবসা করেন। উথলী বাসস্ট্যান্ড বাজারে তাদের একটি পুরাতন মোটরসাইকেলের শোরুম রয়েছে। এছাড়া তারা আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন হাটে গিয়ে পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। রিওন তাদের মোটরসাইকেল হাটে নিয়ে যাওয়া-আসার কাজ করেন। গত শুক্রবার (২রা জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর আলমডাঙ্গা পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রাজু, শাওন ও রিওন।
পথিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড়ে পৌঁছালে তারা পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টের সামনে পড়েন। এসময় তাদের একটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে পুলিশের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন রাজু ও শাওন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক ভাইরাল হয়। পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহারকারীদের শাস্তির দাবি জানান বেশিরভাগ কমেন্টকারী।
আটক হওয়ার পূর্বে রবিবার দুপুরে ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজু বলেন, হাট থেকে বাড়িতে ফেরার সময় চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড়ে তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে মামলা দেওয়া হয়। তবে একই সময় অপর এক পুরাতন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীর ১০টি মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের সাথে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। তবে পুলিশের দাবি ওই ১০টি মোটরসাইকেল নতুন এবং সেগুলো শোরুমে নেওয়া হচ্ছিল।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকি প্রদান গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট চলাকালে বৈধ-অবৈধ এবং ছোট-বড় সকল যানবাহনের বিরুদ্ধে সমানতালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, পাশ দিয়ে অবাধে অবৈধ ও কাগজপত্র ফেইল ফিটনেসবিহীন বড় বড় গাড়ি চলাচল করলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় মোটরসাইকেল চালকদের সাথে পুলিশের প্রায়ই বাগবিতণ্ডা হয়।
আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

