১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বিপদের শঙ্কা!

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মনিরুজ্জামান: ঘটনা গতবছরের। জনৈক ব্যক্তি তাঁর এক নিকট আত্মীয়র একটি ধর্মীয় প্রগামে আমন্ত্রীত মেহমান। অনুষ্ঠানস্থল আলোক সজ্জিত। নানা রঙের লাইটিংয়ে রঙ্গিন অনুষ্ঠান মঞ্চ। দূরদুরান্ত থেকে নারী পুরুষ শিশুসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মঞ্চর আশপাশ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যে একদল সারিবদ্ধ ভাবে পেটপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে আগত অথিতিরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দারিদ্রতার কষাঘাতে নিমজ্জিত ব্যক্তির আঙিনায় এমন বিশাল আয়োজন আর গণহারে খাওয়ার দৃশ্য দেখে জনৈক ব্যক্তিকে ভাবিয়ে তুলল।

কিভাবে একজন দিনমুজরের পক্ষে এমন হাজার হাজার টাকা খরচ করে আয়োজনকরা সম্ভব? খোদার সহায়তা থাকলে বান্দা সবই পারেন হয়ত সেখানে এমন বানীই প্রচলিত। যাহোক, মঞ্চে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠান শুরুর প্রস্তুতি চলমা…

অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বিপদের শঙ্কা! মনিরুজ্জামান: ঘটনা গতবছরের। জনৈক ব্যক্তি তাঁর এক নিকট আত্মীয়র একটি ধর্মীয় প্রগামে আমন্ত্রীত মেহমান। অনুষ্ঠানস্থল আলোক সজ্জিত। নানা রঙের লাইটিংয়ে রঙ্গিন অনুষ্ঠান মঞ্চ। দূরদুরান্ত থেকে নারী পুরুষ শিশুসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মঞ্চর আশপাশ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যে একদল সারিবদ্ধ ভাবে পেটপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে আগত অথিতিরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দারিদ্রতার কষাঘাতে নিমজ্জিত ব্যক্তির আঙিনায় এমন বিশাল আয়োজন আর গণহারে খাওয়ার দৃশ্য দেখে জনৈক ব্যক্তিকে ভাবিয়ে তুলল। কিভাবে একজন দিনমুজরের পক্ষে এমন হাজার হাজার টাকা খরচ করে আয়োজনকরা সম্ভব? খোদার সহায়তা থাকলে বান্দা সবই পারেন হয়ত সেখানে এমন বানীই প্রচলিত। যাহোক, মঞ্চে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠান শুরুর প্রস্তুতি চলমান। এরমধ্যে মঞ্চ এবং তার চারপাশ হাজারও দর্শকে পূর্ণ হয়ে গেছে। সকলের অনুরোধে অনুষ্ঠান শুরু হলো। অনুষ্ঠানের মধ্যে হঠাত্ উঠতি বয়সি দুই যুবকের ইভটেজিং এর স্বীকার এক তরুণী। নানা কুরুচিপূর্ণ বাক্য বিনীময় শুনে পাশে থেকে অপর এক তরুণ যুবক ইভটেজিং এর প্রতিবাদ করায় বখাটে দুই যুবক উত্তেজিত হয়ে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ দিতে লাগল। সাথে প্রতিবাদকারী তরুণকে দেখে নেয়ার হুমকিতো আছেই। ঘঠনা জনৈক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করে উভয়কে বোঝানোর চেষ্টা করলেন।

কুমতলব নিয়ে আসা দুই যুবককে কোন ভাবেই শান্ত করতে পারলেননা। উভয় পক্ষের বাগবিতন্ডার মধ্যে দুই যুবকের ৩০-৩৫ জনের সমবয়সের বাহিনী হাজির। কেউ সমাধান চাচ্ছেনা। ঘটনাটি কত দূর এগিয়ে নেয় যায় এমন আবাস পাওয়া যাচ্ছে। জড় হতে হতে মাঠ ছেরে বিশাল এক হট্টগোল শুরু।

পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় অতিথিরা মঞ্চ থেকে নিরাপদ স্থানেে আশ্রয় নিলেন। ততক্ষণে বোঝাতে যাওয়া জনৈক ব্যক্তিসহ অনুষ্টান আয়োজকদের অনেকেই সন্তানের বয়সি যুবকদের নিকট চরমভাবে অপদস্থ হলেন্ ।

একসময় এলাকার নানা নির্যাতনে নিপীরণ নিয়ে যেসব গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিচার শালিশি করে মিমাংসা দিতেন তাঁরা আজ যুবকদের নিকট অসহায়। কেউই যুবকদরে অণ্যায় দেখলে আগের মত শাসন করেননা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই নাকি বিভিন্ন ইস্যুতে নিরাপরাধ হয়েও মামলা, পুলিশ এর হয়রানীর স্বিকার হতে হয়।

জনৈক ব্যক্তি এক চাচার কাছে জানতে চাইলে আতংক আর ভিতি সুরে চাচার সাফ জবাব “বাবা ওরাতো মাদক খায়, মাদক বেচে, ওদের সাথে কথা বললে ইজ্জত থাকেনা। ওরা আমাদের মত মানুষদের দেখলে বিড়ির মাথা উচু করে টানে।“ চাচার কথায় বুঝতে বাকি রইল না জনৈক ব্যক্তির। দুই যুবকের বিরুদ্ধে কথা বলায় ওরা পরবর্তিতে হামলা করতে পারে এমন আশংকা করে বৃদ্ধ চাচা জনৈক ব্যক্তিকে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন।

পরে অবশ্য এক জনপ্রতিনিধির ভাই যিনি একটি দলের সচ্ছ নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি এসে পরিস্থিতি স্বাভিাবিক করার চেষ্টা করছিলেন। এর ফাঁকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘঠেছে। জানাগেল, বখাটে দুই যুবক অনুষ্টান চালানোর জন্য মিষ্টি খাওয়ার আবদার করেছিলো আয়োজক কমিটির কাছে।

যা না পেয়ে অনুষ্ঠানটি পন্ড করার মিশনে এসছিলেন তাঁরা। তাই আয়োজকরা যতটা সম্ভব ওদের কাছে নতজানু হয়ে থাকার আগ্রহ দেখোলেন। এবার আসি মূল আলোচণায়। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপার চলছে সারাদেশে। আইনশৃংখ্লারক্ষাকারী বাহিনীর তত্ পরতায় অভিযুক্তরা অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে।

সিলেট এর নারকীয় ঘটনার রেশ না কাটতেই নোয়াখালীর কতিপয় অমানুষগুলো গৃহবধূকে বিবস্র্র করে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম নিকৃষ্ট অপরাধের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা ভাইরাল হলে সর্বমহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। স্বাধীনদেশে বাস করে কোন সভ্য সমাজের মানুষ এই বর্বরতাকে মেনে নিতে পারছেন না। না পারার যথেষ্ট যুক্তিও রয়েছে। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্থি মৃত্যু দন্ড রাখার আইন পাশের দাবী উঠেছে।

সারাদেশে এরকম নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নানা শ্রেণি পেশার মানুষসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন অব্যহত রেখেছে। আর ফেসুবক ইউজাররাও প্রতিবাদে সরব। গণমাধ্যমের খবর মারফত যতদূর জানাগেছে ধর্ষণে অভিযুক্ত অনেক আসামী পুলিশ র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে আসামীরা দ্রত সময়ে আটক হয়েছে বলে মনেকরছি।

একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। এক শ্রেণির মানুষ নোয়াখালীর ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দ্বায় চাপানোর ইঙ্গিত করছেন। প্রশ্ন হলো, নির্যাতিত নারীর ওই ঘটনা একমাস গত হয়েছে। গণমাধ্যম এর তথ্যনুসারে জানাযায়। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে অপরাধীরা এতোই ক্মমতাধর যে নির্যাতেনের ভয়ে নির্যাতিত নারীর প্রতিবেশী কিংবা ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি কেউই মুখ খোলেন নি।

অত্যাচারীর কাছে জীবন শংকার আশংকা থাকলে এমনটি স্বাভাবিক। তবে ৯৯৯ এ কল দিয়ে গোপোনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেও যে এলাকার মানুষ সাহস দেখায় না, বুঝতে হবে অপরাধী কতটা ভয়ংকর হলে এমন ঘটনা ঘটে। তাছাড়া অপরাধীদের খুটির জোড় হয়ত এমন অদৃশ্য কেউ যা ওই এলাকার জনসাধরণ আন্দাজ করতে পেরেই নিরবে অত্যাচার অনাচার সয়ে গেছেন! সুতরাং পুলিশ প্রশাসন এর উপর দ্বায় চাপানোর কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছিনা।

পুলিশ ও গনমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি , নোয়াখালীর নারকীয় ঘটনার হোতারা মাদকে আসক্ত/ মাদক কারবারের সাথে জরিত। মাদকে আসক্তর আচরণের ব্যপারে উপরে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে। ধর্ষকদের বিচারের দাবীতে যারা আন্দোলন করছেন তাদের প্রতি সম্মাান জানিয়ে বলছি শুধু ধর্ষণ এর বিচার নয়, মাদক নির্মূলেও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। পুলিশ প্রশাসন তাঁদের সর্বাক্তক শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে মাদক নির্মূলে।

মাদক সেবনকারী/ কারবারীরা খোস বদলে নানা কৌশলে মাদক সরবারহ করে যুবসমাজকে মারক্তক হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। নৈতিকতার কতটা অবক্ষয় হলে যে সমাজে লাশবাহী গাড়িতে মরদেহের পরিবর্তে বস্থায় বস্তায় ফেন্সিডিল আসে সেখানে মাদকের বিরুদ্ধে সময় এসছে সামজিক আন্দোলন গড়ে তোলার। সামাজিক আন্দোলেনের পাশাপাশি জনসচেতণতা বৃদ্ধি করে মাদকের সম্ভাব্য ভয়াবহতার ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে এখনই সংশ্লিষ্ট সকলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। লেখক: সাংবাদিক।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network