৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বান্দার আমলনামা যেভাবে পরকালে দৃশ্যমান করা হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ ডেস্ক:: কিয়ামতে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম শর্ত। মৃত্যুর পর আল্লাহ তায়ালা আমাদের আবার পুনরুত্থিত করবেন। এই ব্যাপারটা যদি কেউ অস্বীকার করে, তবে তার ঈমান থাকবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি এটাকে সৃষ্টি করবেন পুনর্বার; এটা তার জন্য অতি সহজ।’ (সুরা : আর রুম, আয়াত : ২৭)
কোরআন, হাদিস ও কাশফের আলোকে জানা যায় যে পার্থিব জগৎ ছাড়া আরো দুটি জগৎ রয়েছে। এক. আলমে বারজাখ বা অন্তরাল জগৎ, দুই. আলমে গায়েব বা অদৃশ্যের জগৎ। আখিরাত বা পরকাল দ্বারা এই উভয় জগেকই বোঝানো হয়। আলমে বারজাখের অপর নাম ‘কবর’। মানুষ যখন কোনো কাজ করে সঙ্গে সঙ্গে আলমে বারজাখে তার প্রতিবিম্ব অঙ্কিত হয় এবং সে অস্তিত্বের কিছু প্রভাব ও প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে এসব আমলের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটবে। যাকে হাশর বা পুনরুত্থান দিবস বলা হয়। ফলে প্রতিটি কাজের তিনটি স্তর হলো—১. কাজ সংঘটিত হওয়া, ২. তার প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হওয়া, ৩. তা প্রকৃতরূপে প্রকাশ পাওয়া।

গ্রামোফোন (আধুনিক অডিও রেকর্ডার) দ্বারা দৃষ্টান্ত দিলে বিষয়টি ভালো বুঝে আসবে। যখন মানুষ কথা বলে, তখন তার তিনটি স্তর হয়ে থাকে। প্রথম স্তরে কথাটি মুখ থেকে বের হয়, দ্বিতীয় স্তরে শব্দগুলো গ্রামোফোনে রেকর্ড করা হয়, তৃতীয় স্তরে গ্রামোফোন থেকে শব্দগুলো বের করতে চাইলে হুবহু ওই শব্দই বের হয়ে আসে। কথা মুখ থেকে বের হওয়া পার্থিব জগতে কর্ম সংঘটিত হওয়ার দৃষ্টান্ত। গ্রামোফোনে আবদ্ধ হওয়া আলমে বারজাখ তথা অন্তরাল জগতে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হওয়ার দৃষ্টান্ত। আর গ্রামোফোন থেকে হুবহু ওই শব্দ বের হয়ে আসা অদৃশ্য জগতে আমলের পরিপূর্ণ প্রকাশের দৃষ্টান্ত।

কোনো বিবেকবান যেমন এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে না যে মুখ থেকে যে শব্দ বের হয় তাই গ্রামোফোনে আবদ্ধ হয় এবং গ্রামোফোন থেকে বের করলে সেই কথাগুলোই বের হয়, যেগুলো আগে মুখ থেকে বের হয়েছিল। তার বিপরীত হয় না। ঠিক তেমনিভাবে একজন ঈমানদারের এতে সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে যখন কোনো আমল তার থেকে সংঘটিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিবিম্ব জগতে চিত্রায়িত হয়ে যায় এবং আখিরাতে তারই প্রকাশ ঘটবে।

উপরোক্ত ভিত্তিতে নিশ্চিত প্রমাণিত হলো যে পরকালের বিষয়গুলো সম্পূর্ণরূপে আমাদের ইচ্ছাধীন। সেখানে কোনোরূপ জোর-জবরদস্তি বা বাধ্যবাধ্যকতা নেই। তবে যেভাবে গ্রামোফোনের মুখোমুখি হলে প্রতিটি কথার প্রতি সজাগ দৃষ্টি থাকে যেন মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা বের না হয়, যা ওই ব্যক্তির সম্মুখে প্রকাশ করা আমার পছন্দ নয়, যার সামনে পরবর্তী সময়ে এই গ্রামোফোন খোলা হবে এবং তখন আর অস্বীকার করার উপায় থাকবে না। কেননা এই যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যই হলো, কখনো এর দ্বারা এ রূপ হয় না যে বলেছে একটা আর রেকর্ড হয়েছে আরেকটা। ঠিক একইভাবে আমল সংঘটিত হওয়ার সময় এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত যে আমি যা কিছু করছি তা এক জায়গায় রেকর্ড হচ্ছে এবং কোনোরূপ যোগ-বিয়োগ ছাড়া তা একদিন উন্মুক্ত হবে। তখন কোনো ওজর-আপত্তির সুযোগ থাকবে না।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network