১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

উজিরপুরে এমপির সামনে আ’লীগ নেতাকে পেটাল দলীয় অন্য নেতার কর্মীরা

আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২৩

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল প্রতিনিধি:: বরিশালের উজিরপুরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে (বরিশাল-২) সংসদ সদস্য শাহে আলমের সামনেই আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে দলীয় আরেক নেতার কর্মীরা।রোববার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।আহত ইদ্রিস সরদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আহত আওয়ামী লীগের এই নেতাকে (৪৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সাথে অপর সহ-সভাপতি ইদ্রিস সরদার রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। সকালে উপজেলা চত্বরে প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় দু’জনই অংশ নেয়। এ সময় ইকবালের ইন্ধনে তার সমর্থক রিয়াজ, পলাশ ও রুবেল ইদ্রিস সরদারকে মারধর করে।

মারধরের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলম উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি মীমাংসায় তিনি এগিয়ে যাননি। পরে অন্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে হাজির বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহ আলম।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত হন উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: হাফিজুর রহমান ইকবাল এবং একই কমিটির সহ-সভাপতি মো: ইদ্রিস সরদার। তখন সাংসদের সামনে আ’লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ইকবাল দলীয় অপর নেতা ইদ্রিস সরদারকে কটূক্তি করে অশালীন ও অসংলগ্ন মন্তব্য করে। ইদ্রিস সরদার ওই কটুক্তির প্রতিবাদ জানালে সাংসদের সামনেই তাকে মারধর শুরু করেন ইকবাল ও তার সহযোগীরা।

আহত উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মো: ইদ্রিস সরদার অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যর সামনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান আমাকে নিয়ে কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্য করে। আমি প্রতিবাদ করলে হাফিজুর রহমান ও তার সাথে থাকা কাজী রিয়াজ (২৭), পলাশ তালুকদার (৩০), রুবেল হোসেন (২৫) ও ইদ্রিসসহ আট-১০ জন মিলে আমাকে বেধরক মারধর করে।
এদিকে নিজ দলীয় নেতাকে সাংসদের সামনে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল হাসান বলেন, এখনও এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে অবিহিত করব। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network