২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে জব ফেয়ার উদ্বোধন ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার কর্মস্থলে থাকেননা বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ লক্ষীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন বিদ্যালয়ের হোস্টেল, বিজ্ঞান ও আইসিটি ভবন এবং সংযোগ সড়ক উদ্বোধন বরিশাল-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার শিক্ষা বিষয়ে গৌরনদীতে লার্নিং শেয়ারিং সভা গৌরনদীতে সেনাবাহীর অভিযানে গুলি ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ শীর্ষ চিহ্নিত সন্ত্রাসী রায়হানকে গ্রেপ্তার আগৈলঝাড়ায় জহির উদ্দিন স্বপনের গণসংযোগে সংখ্যালঘু জনতার ঢল মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির হাতে আটক ১১

কর্মস্থলে থাকেননা বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আপডেট নিউজ : বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মানবেন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্বকালীন সময়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রোগী, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. মানবেন্দ্র দাস ২০২৫ সালের আগস্টে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি বরিশাল শহরে অবস্থান করছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তিনি প্রতিদিন গড়ে সকাল ১১টার দিকে কর্মস্থলে আসেন এবং দুপুর দেড়টার মধ্যেই উপজেলা ত্যাগ করেন। ফলে দুপুরের পর হাসপাতালের ইনডোর ও জরুরি বিভাগ কার্যত অভিজ্ঞ চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিকেলের পর জরুরি বিভাগ মূলত জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। গুরুতর রোগী এলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো দায়িত্বশীল চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় রোগীকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
রোগীদের অভিযোগেও একই চিত্র উঠে এসেছে। সুমন হাওলাদার নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালে গেলে বলা হয় ডাক্তার নেই। পরে দেখি একই ডাক্তার বরিশালের ক্লিনিকে রোগী দেখছেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হয়। আলেয়া বেগম নামের এক রোগী জানান, তিনি মানবেন্দ্র দাসের কাছে এলে তাকে বরিশালে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে পরার্মশ দেন। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ডা. মানবেন্দ্র নিয়মিত ৩ টার পর থেকে ওই ক্লিনিকে চেম্বার করেন।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, ডা. মানবেন্দ্র দাস বরিশাল শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রোগীদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে পাঠিয়ে তিনি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করেন। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আসেনি, তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন চর্চা চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে ডা. মানবেন্দ্র দাসের নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এডহক ভিত্তিতে তার নিয়োগ হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময় আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের প্রভাব খাটিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যদিও বিষয়টি কখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগের পর থেকে তিনি বরিশাল শহরেই অবস্থান করেছেন। পলাশ নামের বরিশালের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, চাকরি নেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা। সেবা দেওয়ার চেয়ে শহরকেন্দ্রিক থাকাই ছিল মূল লক্ষ্য। এ সব বিষয় তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি তদন্তরে দাবী জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসকদের বিএনপি-পন্থি প্রধান সংগঠনটি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশরে (ড্যাব) বলিশাল জেলা শাখার এক নেতা বলেন, যদি প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে এডহক নিয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করে নিয়োগ বাতিল করা উচিত। সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এমন অনিয়ম চলতে দেওয়া যায় না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মানবেন্দ্র দাস উপস্থিত সাংবাদিকে বলেন, সাংবাদিক দেখলেই আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। যত অনিয়ম আপনারা করেন, দোষ চাপান আমাদের ওপর। আমার বিষয় দেখার জন্য আমার কর্তৃপক্ষ আছে। এটা আপনাদের বিষয় না।
এ প্রসঙ্গে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার বলেন, নিয়োমিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাটা যেমন সত্য, তেমন আবাসিক সংকটও সঠিক। ফলে অনেকের পক্ষে এখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এতে সাধারণ রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এটাও সত্য। বারবার আবাসিক সংকটের কথা বলা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি করতে হলে কর্মস্থলে থাকতে হবে। এটি চাকরির মৌলিক শর্ত। দায়িত্বে অবহেলা বা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে আমরা ব্যবস্থা নেব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, দায়িত্বকালীন সময়ে সরকারি চিকিৎসকের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখা বা কমিশন গ্রহণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে আরএমও পদের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক অন-কলে থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network