৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

চরফ্যাসনে দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যা: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২৫

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নুরুল্লাহ ভূইয়া, চরফ্যাসন,ভোলা: চরফ্যাসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের আপন দুই ভাইকে খুনের ঘটনায় হওয়া মামলায় দুই ভায়রা ভাইসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুই জনকে ছয় মাস ও পাঁচ মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন চরফ্যাসন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর বারোটায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: শওকত হোসাইনের আদালত এই রায় দেন। মামলার ভিকটিম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
তপন চন্দ্র শীল এবং দুলাল চন্দ্র শীল আপন দুই ভাই।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন মোঃ বেলাল ও তার ভায়রা ভাই মোঃ ছালাউদ্দিন বয়াতী, মোঃ শরীফুল ইসলাম এবং অপর আসামী আবু মাঝি ছয় মাস ও আবুল কাশেম পাঁচ মাসের কারাদন্ডপ্রাপ্ত হন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল আসলাম পুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সুন্দরী খালের পশ্চিম পাশে জামাল ভূইয়ার নির্জন বাগানে দুইটি মাথাবিহীন, শরীর আগুন দিয়ে ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। তখন পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তার কিছুদিন পরে একই গ্রামের জনৈক মহিবুল্লাহ’র বাড়ীর টয়লেটের ট্যাংকির ভিতরে ভিকটিমদের কাটা মাথা দুইটি পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, লাশ দুইটি চরফ্যাসন পৌরসভার তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আপন দুই ভাই দুলাল চন্দ্র শীল এবং তপন চন্দ্র শীল।

ভিকটিমরা আসামী বেলালের কাছে তাদের জমি বিক্রয়ের পাওনা টাকা চাওয়ায়, বেলাল তাদেরকে হত্যা কান্ডের পরিকল্পনা করে। বেলাল, ছালাউদ্দিন ও শরিফুল ভিকটিম তপন চন্দ্র শীল এবং দুলাল চন্দ্র শীলকে জামাল উদ্দিন ভূইয়া বাগানের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বেলাল ভিকটিম তপন কে ছেনী দা দিয়া গলা কেটে হত্যা করে এবং আসামী মোঃ শরিফুল ছেনী দা দিয়া অপর ভিকটিম দুলালকে গলা কেটে হত্যা করে। দুই ভাইয়ের দেহ থেকে মাথা আলাদা করে, তাদের দেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলেন। আদালত আলোচিত এই মামলার পর্যবেক্ষণে বলেন, খুনের মোটিভ ইংগিত করে অপরাধীরা নীচ মনোবৃত্তির, সংখ্যালঘু দু’জন ব্যক্তির জমির মূল্য যেনো পরিশোধ করতে না হয় এই জন্য খুন করেছে, আসামীর ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে ধারালো অস্ত্র ও পেট্রল কিনে তা ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় খুন করে। রায় পড়ার এক পর্যায়ে আদালত এই আলোচিত মামলায় রায় দ্রুত দেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা করায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী এডিশনাল পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরণকে ধন্যবাদ জানান।
১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আজ জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করা হয়।

এদিকে হত্যা মামলার রায়প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে এই মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী এডিশনাল পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরণ বলেন, এটি হচ্ছে চরফ্যাসন (চৌকি) আদালতের ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হলো এখনো দেশে ন্যায় বিচার রয়েছে।
একই সাথে মামলার রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন বাদী পক্ষের লোকজন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি শরিফুল ইসলাম, আবু মাঝি ও আবুল কাশেম। বেল্লাল ও ছালাউদ্দিন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network