১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

জীবননগরে ভয়াবহ আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি, পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ

আপডেট: মে ১৫, ২০২৪

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ছবি: আপডেট নিউজ বিডি টোয়েন্টিফোর

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভয়াবহ আগুনে ৬টি দোকান পুড়ে যেয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌরশহরের হাসপাতাল সড়কের কাঠপট্টিতে আগুন লাগার এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনতা ও পুলিশ আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে দোকানগুলো পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ৬ দোকান মালিক হলেন- খোরশেদ আলম, আরিফ হোসেন, মহর আলী, আলাউদ্দিন, শহিদ ও ডালিম। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনের নাম উল্লেখ করে জীবননগর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একজন ও মামলার বাদী বাঁকা আশতলাপাড়ার মৃত ওসমান গণির ছেলে শহিদ বলেন, ‘জীবননগর হাসপাতাল সড়কের কাঠপট্টিতে আমার একটি ফার্নিচারের দোকান আছে। প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আমিসহ কাঠপট্টির অন্যান্য ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায়। আমরা সকলেই বাড়িতে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি কাঠপট্টিতে আগুন লেগেছে। দ্রুত আমরা কাটপট্টিতে এসে দেখি আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আমাদের সাথে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট, স্থানীয় জনতা ও পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেও সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। আগুন যখন নিয়ন্ত্রণ আসে ততক্ষণে আমাদের দোকানগুলো একেবারে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে আমাদের আনুমানিক এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অপর ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের বাড়িতেও আগুন লাগে। খোরশেদ আলমের মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ বিষয়ে খোরশেদের সাথে তাঁর জামাইয়ের বিরোধের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খোরশেদের জামাইকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতেও দেখা গেছে। খোরশেদকে সর্বসান্ত করতে তাঁর জামাই খোরশেদের দোকানে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যে আগুনে আমাদের অপর ৫জনের দোকানও ভস্মীভূত হয়েছে।’

খোরশেদ আলমের সাথে বিরোধের জের ধরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে আগুন, না কি এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা তা তদন্ত সাপেক্ষে বের হয়ে আসবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করে খোরশেদের পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টা করে আসছে তাঁর জামাই উপজেলার উথলী ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে সোনা মিয়া। এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় জীবননগর থানা পুলিশ। বুধবার সকালেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একটি টিম। ঘটনার বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে লিখিতভাবে জানানোর পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার বিকালে সোনা মিয়াকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমিনুর রহমান নয়ন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
error: এই সাইটের নিউজ কপি বন্ধ !!
Website Design and Developed By Engineer BD Network